আমরা বহু বছর ধরেই একটা ব্যাপারের সাথে সুপরিচিত যে, বড় ম্যাচ বা ডার্বির পরিসংখ্যানে আমাদের পাশের ক্লাব সুযোগ পেলেই বিকৃত করে দেয়। তার ফলে দেখা যায়, মাথায়-মাথায় জয়ের হিসেবে ওরা সেই আমাদের থেকে আটটা বা দশটা এগিয়ে! এই পুকুর চুরির কাজে ওরা তো সিদ্ধহস্ত বটেই, আর সেটা সহজেই সম্ভবপর হয় বঙ্গ মিডিয়া আর ক্রীড়ামহলের একটা বড় অংশ ওদের পক্ষে থাকায়। সে যাই হোক, আমাদের সর্বদা প্রয়াস থাকবে, এই অন্যায় এবং মিথ্যাচারকে নস্যাৎ করে সত্য উদ্ঘাটন করা। শেষ কয়েক বছরের মধ্যে আমাদের কিছু সভ্য-সমর্থকদের নানা অধ্যাবসায় এবং গবেষণার ফলে সেই কাজ বেশ খানিকটা সম্পন্ন হয়েছে, স্বীকৃত হয়েছে ১৯২১ সালে মোহনবাগানের প্রথম বড় ম্যাচ জয়ের কীর্তি যার প্রথম গোলদাতা স্বনামধন্য রবি গাঙ্গুলি, প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ডার্বির ইতিহাসে হ্যাট্রিককারী প্রথম দুজনই বাঙালী আর মোহনবাগান দলের যথাক্রমে অমিয় দেব (কানি) এবং অসিত গাঙ্গুলি, সাথে আরো কিছু গুপ্ত বা সুপ্ত ম্যাচের ফল সামনে আনা হয়েছে। আজ এরকমই একটা বড় ম্যাচের আলোচনায় আসব, যার হিসেব আজ অবধি আমাদের জানা কোন পরিসংখ্যানে ঠাঁই পায়নি, চাপা পড়েছিল কেবল পুরনো সংবাদপত্রের ছাপা অক্ষরে।
ট্রেডস কাপ, ‘১৯৪৮। সেই ট্রেডস কাপ, যার ইতিহাস নতুন করে মোহনবাগান প্রেমীদের বলে দেবার কিছু নেই। একদা এই টুর্নামেন্টের গুরুত্বও যেমন ছিল, তেমনি মোহনবাগান সেই ১৯০৬-০৮ এই টুর্নামেন্ট জয়লাভের হ্যাট্রিক দিয়ে শুরু করে বহুবার সাফল্যের মুখ দেখেছে। যাই হোক, ২৩ শে জুলাই ১৯৪৮, অর্থাৎ ট্রেডস কাপের সূচী বা ফিক্সচার যেদিন যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল, সেদিনই ভবিতব্য লেখা হয়ে গিয়েছিল যে দ্বিতীয় রাউন্ডেই দেখা হতে চলেছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের। যথারীতি প্রথম রাউন্ডে মোহনবাগান সালকিয়া ফ্রেন্ডসকে আর ইস্টবেঙ্গল স্পোর্টিং ইউনিয়নকে হারিয়ে মুখোমুখি হল ট্রেডস কাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে।
৮ই আগস্ট ‘১৯৪৮, এক রবিবাসরীয় বিকেলে তদানীন্তন ময়দানের এজমালি মাঠ, তথা পুরনো মোহনবাগান মাঠে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে মোহনবাগান পরিষ্কার ২-০ গোলে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে ট্রেডস কাপের তৃতীয় রাউন্ডে চলে গিয়েছিল।





